
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ইরানে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালালে তেহরানের পাল্টা জবাবের আওতায় পুরো ইউরোপও আসতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির এক প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। তাঁর দাবি, ইরানের পাল্টা হামলার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পুরোপুরি সক্ষম। আর এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন দেশটির শাহিন শহর আসনের সংসদ সদস্য হোসেইনালি হাজি দেলিগানি।

তেলের দাম ছাড়াবে ১৫০ ডলার
সাক্ষাৎকারে দেলিগানি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এখন আগের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী। তিনি বলেন, “সম্ভাব্য পাল্টা হামলায় যে ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তার আঘাত হানার সক্ষমতা ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের সীমা মুহূর্তেই ছাড়িয়ে যাবে।”
পাল্টা জবাব হবে ব্যাপক ও অপ্রতিরোধ্য
ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিবের সম্ভাব্য কোনো হামলার মাত্রা বা নির্দিষ্ট অবস্থান বিবেচনা করে ইরান তার জবাব সীমিত রাখবে না বলে সতর্ক করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “ইরানের প্রতিক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমাদের জবাব হবে ব্যাপক, বহুগুণ শক্তিশালী এবং অত্যন্ত কৌশলগত।”
মার্কিন নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
ইরানের সমুদ্রসীমায় কিংবা আন্তর্জাতিক জলসীমায় তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধকে ‘একধরনের যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেন দেলিগানি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “উপযুক্ত সময়ে এবং নিজেদের কৌশলী পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এই অন্যায্য অবরোধের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ ও আঘাত হানবে।”
তবে ইরানের এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় ইউরোপের কোন কোন নির্দিষ্ট দেশ বা সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরান যে কোনো ধরনের আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক আপস করবে না—এই বক্তব্য তারই সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইঙ্গিত বহন করে।
(তথ্যসূত্র: আল জাজিরা)


