
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নেওয়ায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করছে। তবে এক দিনে ২৯ জনের ভর্তি হওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সেখানে ১০৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাজশাহীর ৪৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৭ জন, নওগাঁ ও নাটোরের সাতজন করে, পাবনার পাঁচজন এবং অন্যান্য জেলার চারজন ছিলেন। অর্থাৎ রাজশাহীর পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলো থেকেও আক্রান্তরা চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসছেন।
ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু
রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিম (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পোলাডাঙ্গা বটতলা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহজনক ডেঙ্গুজনিত হৃদ্পেশির প্রদাহের ফলে হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা এবং পরবর্তী সময়ে আকস্মিক হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (কালবেলা)
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ২৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১০৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেন। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগ শনাক্ত হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
সারা দেশেও বাড়ছে ডেঙ্গুর চাপ
রাজশাহীর পাশাপাশি সারাদেশেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৬৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ হাজার ৬২৭ জন। একই সময়ে রাজশাহী বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪৬ জন।
এমন পরিস্থিতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ ডিজিটাল সচেতনতা কর্মসূচিও শুরু হয়েছে, যেখানে স্থির পানি অপসারণ, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা চায় সিটি করপোরেশন
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ চলছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার ও ড্রামসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর তিনি জোর দেন। নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত স্থাপনাতেও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী ও আশপাশের জেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা পরিস্থিতির ওপরও নজর বাড়ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


