
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালালে পাল্টা জবাবে নতুন ধরনের অস্ত্র ও আগের চেয়ে ভিন্ন লক্ষ্যবস্তু বেছে নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ সতর্কবার্তা দেন। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ আনা হবে।

আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, নতুন সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হবে, যার সক্ষমতা দেখে বিশ্ব অবাক হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আগের হামলার লক্ষ্যবস্তুকেই পুনরায় লক্ষ্য করা হবে—এমনটি নয়। ইরানের এমন কিছু নতুন লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে এর আগে হামলা চালানো হয়নি।
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি
হোসেইন মোহেবি বলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের নতুন কোনো পর্যায় শুরু হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি, ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তু—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৩৭ এবং সংঘাতের আগে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১২৫টি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ অঞ্চলে হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন হামলার বিষয়ে আইআরজিসির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিস্তারিত ঘোষণা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।


