
ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ সালের বই, নির্দেশ সংসদীয় কমিটির
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার তাগিদ; ১২তম নিবন্ধন পর্যন্ত শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সব পাঠ্যপুস্তক ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে প্রবিধানমালা তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরকারের নির্বাহী আদেশে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার সুপারিশও করেছে কমিটি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বই পৌঁছে দিতে মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে কমিটি।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়।
বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে হজযাত্রী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে অন্যান্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থও পর্যায়ক্রমে পরিশোধের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহ-সুপার, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌখিক পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব অনিয়ম তদন্তে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান ও তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যক্রম, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। কারিগরি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান মোজাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিআরসিএ, এনসিটিবি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।



