
৭ জনের সাজা, খালাস ১ | মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের লাখ টাকা করে জরিমানা
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর এক আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা আদালত-১-এর বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও মো. শাহজাহান মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন—মো. সুজন, মো. সানোয়ার হোসেন, মো. শফিকুল ইসলাম শফিক এবং রুজবেল ওরফে ইমন। তাঁদের প্রত্যেককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার অপর আসামি সঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
হাঁটতে বেরিয়ে গুলিতে-ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম ফারুক। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকার বটতলা বাজারে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে তাঁকে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন ২১ ডিসেম্বর নিহত ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
৫ বছর পর আবার অভিযোগপত্র
হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী।
এরপর আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্ত শুরু করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে পুনরায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আলামত পরীক্ষার পর সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।
কয়েকজন আসামি পলাতক
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মাদ সাইদুর রহমান স্বপন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ কে এম শামিমুল আকতার শামিমসহ অন্য আইনজীবীরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনসহ কয়েকজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঘোষিত এ রায়ে একদিকে যেমন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্ত, নারাজি ও পুনঃতদন্তের কয়েকটি ধাপও পার হতে হয়েছে।


