
টানা চার হারের পর পয়েন্ট পেল আশরাফুলরা
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে অবশেষে টানা হারের বৃত্ত ভাঙল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের পুলপর্বের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে টানা চার ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলের জন্য এই ড্র বড় এক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে এশিয়ান গেমসে এই চীনের কাছে হারলেও এবার মাঠে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে চীন। বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ ধরে রেখে প্রথম কোয়ার্টারেই গোল আদায় করে নেয় তারা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরও ভেঙে পড়েনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচে ফিরতে বেশ কয়েকটি জোরালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। তবে চীনের জমাট রক্ষণ ও ফিনিশিংয়ের অভাবে বিরতির আগে সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।
অধিনায়কের স্ট্রোক থেকে কাঙ্ক্ষিত সমতা
তৃতীয় কোয়ার্টারে গতি ও আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ৩৮তম মিনিটে চীনের ডি-বক্সে বল দখলের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পেনাল্টি স্ট্রোক আদায় করে নেয় দল। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় স্পট থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম। অধিনায়কের সফল লক্ষ্যভেদে ১-১ ব্যবধান হতেই প্রাণ ফিরে পায় দল।
শেষ কোয়ার্টারে দুই দলই জয়সূচক গোলের মরিয়া চেষ্টা চালায়। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের সতর্ক প্রহরায় চীনের আক্রমণগুলো বারবার প্রতিহত হয়। ফলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।
চার ম্যাচে ২৫ গোল হজমের পর স্বস্তি
এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল চরম দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর জাপানের কাছে ১-০, মালয়েশিয়ার কাছে ৬-১ এবং চতুর্থ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারে দল। চার ম্যাচে ২৫টি গোল হজমের পর চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই লড়াকু ড্র খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধার করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।


