
অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারায় যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা অপরিহার্য।”

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন এবং দেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।”
তিনি আরও বলেন, তাবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দেশ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল। নস্যাৎ হয়েছিল সব জাতীয় স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল। জাতির সেই চরম ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন ত্রাতার।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সিপাহি ও জনতার সেই ঐতিহাসিক সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ। ঠিক একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটেছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে। ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ মানুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মতো বিপর্যয় থেকেও দেশ রক্ষা পায়।
বাণীতে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বিপ্লব ও সংহতির ধারাবাহিকতায় তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো জাতীয় সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আলোচনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদকেই সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে; যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা এবং কার্যকর গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।


