
বক্স অফিসে ধারাবাহিক সাফল্য নেই, প্রশংসিত পাঁচ ছবিতে অভিনয়ের স্বীকৃতি; গ্ল্যামার ও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরেও আলোচনায়
ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচিত নাম পরীমনি। ২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডলের ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর থেকেই আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি করেছিলেন ব্যাপক আগ্রহ। তবে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সেই আলোচনার সঙ্গে বক্স অফিসের সাফল্য সব সময় তাল মেলাতে পারেনি।

উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য ও বিভিন্ন চলচ্চিত্রবিষয়ক সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, পরীমনি অভিনীত প্রায় ৩৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ২৪টি মুক্তি পেয়েছে। বাকি ১১টি রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়, নির্মাণাধীন কিংবা স্থগিত অবস্থায়। মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে ১৯টি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ এবং পাঁচটি গড়পড়তা সাফল্য পেয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বক্স অফিসের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার না থাকায় এ হিসাবকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশংসিত কয়েকটি চরিত্র
ব্যবসায়িক সাফল্যের হিসাবের বাইরে অভিনয়ের জন্যও কিছু সিনেমায় প্রশংসা পেয়েছেন পরীমনি। ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে শুভ্রা চরিত্রে অভিনয় তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়ান তিনি।
২০২০ সালে চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায় অভিনয়ও আলোচনায় আসে। করোনাকালীন প্রতিকূলতার মধ্যেও ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া ‘রক্ত’ (২০১৬), ‘গুণিন’ (২০২২) ও ‘মা’ (২০২৩) চলচ্চিত্রে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয় সক্ষমতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
‘রক্ত’ সিনেমায় অ্যাকশনধর্মী চরিত্র, ‘গুণিন’-এ রাবেয়া এবং ‘মা’ চলচ্চিত্রে এক সংগ্রামী মায়ের ভূমিকায় অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনায় এসেছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক ছবির গণ্ডির বাইরেও অভিনয়ের সুযোগ খুঁজেছেন এই অভিনেত্রী।
পর্দার বাইরেও আলোচনায়
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতি এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনা পরীমনিকে বারবার সংবাদ শিরোনামে এনেছে। ২০২১ সালের জুনে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি পরিণতি ও মামলার সর্বশেষ অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই বছরের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় র্যাবের অভিযানের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার হন পরীমনি। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে প্রায় এক মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এ ঘটনাও তখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
পরে পুলিশের তৎকালীন কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও ওই কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে যাতায়াতের বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। এ ঘটনায় সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে পরীমনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল আলাদা করে উপস্থাপন করা জরুরি।
অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে বিয়ে, সন্তান জন্ম, দাম্পত্য বিরোধ ও বিচ্ছেদ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন পোস্ট ও লাইভ বক্তব্যও তাকে আলোচনায় রেখেছে। কখনো সহকর্মী, কখনো গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধের ঘটনাও সামনে এসেছে।
বক্স অফিসের বাইরে প্রভাব
পরীমনির ক্যারিয়ার মূল্যায়নে তাই দুটি দিক আলাদা করে দেখতে হয়। একদিকে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ব্যবসায়িক ফল, অন্যদিকে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, দর্শকের আগ্রহ এবং অভিনীত কিছু চরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা। বক্স অফিসে ধারাবাহিক সাফল্য না থাকলেও ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা ও চলচ্চিত্রের নানা ঘটনায় আলোচনায় থেকেছেন তিনি।
ঢালিউডে তার অবস্থান কেবল সিনেমার ব্যবসায়িক ফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং বাণিজ্যিক সাফল্যের সীমাবদ্ধতা এবং আলোচনায় থাকার প্রবণতা—দুইয়ের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে পরীমনির তারকাখ্যাতির আলাদা অধ্যায়।


