
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের ঘোষণা; ২৮ দিন সময়, প্রয়োজনে বাড়বে আরও ১৪ দিন
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির এই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন আইজেনকোট। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকোটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট। রোববার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসন ৪৮টি। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য ১২০ আসনের নেসেটে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। এসব আলোচনায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে এবং ৪৬ জন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান। বাকি সাত সদস্যের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম কোনো প্রার্থীর পক্ষে সুপারিশ করেনি।
তবে আইজেনকোটের সামনে সরকার গঠনের পথ সহজ নয়। তাঁর জোটের আসনসংখ্যা ৪৮ হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব দলের সমর্থন পেলে তাঁর পক্ষে ৬৭ সদস্যের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। তবে আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিরোধী জোটের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। বিকল্প হিসেবে তাদের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমাদ তিবি বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিবির মতে, আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোট সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
এদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা সরকার গঠন করলে ইসরায়েলের পতন ঘটবে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের সরকার সন্ত্রাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল হবে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে। গাজা ও লেবাননের সংঘাত এবং ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইজেনকোট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজন আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। তাঁকে সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর।


