
বিনোদন প্রতিবেদক
তামিল, তেলেগু ও হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন শ্রুতি হাসান। কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান ও অভিনেত্রী সারিকার বড় মেয়ে শ্রুতি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০ বছরে পা দিয়েছেন।

সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের স্বাস্থ্য, গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন শ্রুতি। সেখানেই জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস) ধরা পড়ে।
শ্রুতির ভাষ্য, কৈশোর থেকেই পিসিওএসের কারণে ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে বলা হয়েছিল, এই শারীরিক অবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
একপর্যায়ে শ্রুতি এমনও ধরে নিয়েছিলেন যে, হয়তো কখনোই জৈবিক সন্তানের মা হতে পারবেন না। এমনকি ভবিষ্যতে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়েও মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
নিজের সেই সময়ের মানসিক অবস্থার কথা স্মরণ করে শ্রুতি বলেন, তাঁকে বারবার বলা হয়েছিল, পিসিওএস থাকলে মা হওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হবে। তাঁর ধারণা হয়েছিল, চিকিৎসকের কাছে গেলে হয়তো জানতে পারবেন, সন্তান ধারণের সব পথই বন্ধ হয়ে গেছে।
বদলেছে ধারণা
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্ব নিয়ে শ্রুতির সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি মা হওয়ার সম্ভাবনাকে নতুন করে দেখছেন। ৪০ বছর বয়সে এসে সন্তান ধারণের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
পডকাস্টে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বন্ধ্যাত্ব ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ড. রিচিকা সহায় শুক্লা। তাঁর মতে, পিসিওএসের কারণে কিছু নারীর ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা হতে পারে। এর ফলে গর্ভধারণে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তবে পিসিওএস থাকলেই যে মাতৃত্ব অসম্ভব—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিসিওএস থাকা অনেক নারীই গর্ভধারণ করতে পারেন।
মাতৃত্ব নিয়ে নতুন আশাবাদ
শ্রুতির নিজের অভিজ্ঞতাও সেই পরিবর্তিত উপলব্ধির কথাই বলছে। একসময় যেখানে তিনি সন্তান ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রায় আশাহীন হয়ে পড়েছিলেন, এখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভবিষ্যৎ মাতৃত্বের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
ব্যক্তিগত জীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে শ্রুতি শুধু নিজের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কথাই জানাননি, পিসিওএস ও মাতৃত্ব নিয়ে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছেন।


