
টিএসসি, ভিসি চত্বর ও সিনেট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ; শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টিএসসি, সিনেট ভবন, প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন এলাকা, ভিসি চত্বর ও নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণসহ বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রেজাউল করিম (৪২), সোহেল রানা (৩৩) ও নাজমুস সাদ (৩৩)। তাঁদের মধ্যে রেজাউল করিমের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুরে, সোহেল রানার রাজশাহীর পুঠিয়ায় এবং নাজমুস সাদের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে টিএসসি-সংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনেও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর ও নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া জগন্নাথ হলের কাছাকাছি, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পর কয়েকজনকে পালিয়ে যেতে দেখে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন। এ সময় কয়েকজনকে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাত থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিস্ফোরণের পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে একটি সভাও করা হচ্ছে।
প্রক্টর আরও বলেন, ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


