
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে পূর্ব জাপানের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগ। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

জাপানের কিয়োডো ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কানাগাওয়া ও চিবা প্রিফেকচারে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিধসে ঘরবাড়িতে কাদা ঢুকে পড়া এবং মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ইজু দ্বীপপুঞ্জের ওশিমায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ভূমিধসের সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করা হয়। ভারি বৃষ্টির কারণে জাপানের পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি রয়েছে।
১৬ লাখের বেশি মানুষকে সরার পরামর্শ
টাইফুনের প্রভাবে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় ১৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইজু দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি এলাকায় জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনাও জারি করা হয়।
জাপানের স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ভূমিধসপ্রবণ এলাকা ও নিচু স্থান এড়িয়ে চলতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড়ের মূল প্রভাব কমে এলেও মাটি নরম হয়ে থাকা এবং নদীর পানি বাড়ার কারণে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
বাতিল শত শত ফ্লাইট, রেল চলাচলেও ধস
দুজুয়ানের প্রভাবে শত শত বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস (জেএএল) ও অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) মিলিয়ে ২১ সেপ্টেম্বরই কয়েক শত ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই দিন ৩৮৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল।
বিভিন্ন রেলপথেও সেবা বন্ধ রাখা হয়। চিবা প্রিফেকচারে মঙ্গলবারও কয়েকটি রেললাইন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিছু মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বন্ধ রয়েছে।
এশিয়ান গেমসেও প্রভাব
টাইফুনের প্রভাবে জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসের সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মধ্য জাপানের আইচি প্রিফেকচারে অনুষ্ঠিত অশ্বারোহণের ইভেন্টের একটি প্রতিযোগিতা ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
আরও বৃষ্টির আশঙ্কা
মঙ্গলবার সকালে টাইফুনটি জাপানের পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে সমুদ্রের দিকে সরে যাচ্ছিল। তবে আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী ভারি বৃষ্টির কারণে কান্টো অঞ্চল ও ইজু দ্বীপপুঞ্জে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো কাটেনি। কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাত থেমে যাওয়ার পরও ভেজা ও নরম মাটির কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
জাপানের পূর্বাঞ্চলে দুজুয়ানের এই প্রভাব দেশটির পরিবহনব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছে।


