
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণের পর বাজারে গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন। বিশেষ করে, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা ২৮ সেপ্টেম্বরের এক বৈঠকে দেশে কোনো ধরনের গ্যাস সংকট নেই বলে জানানোর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কথিত কৃত্রিম সংকট এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তাজনূভা জাবীন।
তিনি উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
নতুন করে ২৫২ টাকা বাড়ানোর পর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাজারে সিলিন্ডার আরও বেশি দামে বিক্রির আশঙ্কাও তুলে ধরেন।
এলপিজি সংকট নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এলপিজি অপারেটরদের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তাজনূভা জাবীন প্রশ্ন করেন, বৈঠকের পাঁচ দিনের মাথায় কেন আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো।
তার দাবি, ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই—এ কথা সভায় জানিয়েছিলেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা।
তাজনূভা জাবীনের প্রশ্ন, ‘সংকট না থাকলে’ বৈঠকের মাত্র পাঁচ দিন পর এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলো কেন?
দেশে এলপিজি আমদানির বাজারের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া ৫২টি কোম্পানি থাকলেও মূলত ৮-৯টি কোম্পানি নিয়মিত এলপিজি আমদানি করে থাকে।
অক্টোবর মাসের জন্য আমদানি কম হওয়া, সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং এর প্রভাবে বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের জানা ছিল কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তাজনূভা। তার পোস্টে দাবি করা হয়, কয়েকটি এলপিজি অপারেটর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে—এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাজনূভা জাবীন।
তিনি বলেন, শুধু জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না এবং এর পেছনে কারা দায়ী—তা কার্যকরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে কি না, নাকি এসব কারণকে ব্যবহার করে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা হচ্ছে—সে বিষয়েও সরকারের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি।
তাজনূভা জাবীনের বক্তব্য, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। তার মতে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে।


