
ডিলারভিত্তিক তথ্য থাকবে অনলাইনে, অস্বাভাবিক বিক্রিতে সতর্কবার্তা
কৃষকের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় চালু হয়েছে ‘পবা সার ডটকম’। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের কাছে থাকা সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে। কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা আসবে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে তা যাচাই করবে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ সেবার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।
ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাঁদের ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ায় অন্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় কৃষকদের কোনো বাড়তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তাঁরা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন। শুধু ডিলারদের তাঁদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এতে প্রশাসন অনলাইনেই জানতে পারবে কোন ডিলারের কাছে কত সার রয়েছে।
ইউএনও জানান, সারের বিতরণ তদারকিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করবেন। তাঁদের পরিদর্শনের তথ্য জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। পরে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাঁদের কার্যক্রম তদারকি করবেন।
‘পবা সার ডটকম’ একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, শুধু ডিলারের গুদামে কত সার আছে, তা জানলেই হবে না। কোন এলাকায় কত কৃষক, তাঁদের কত জমি এবং কোন মৌসুমে কী ফসল হচ্ছে—এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো ব্লকে কত কৃষক কত জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে আগেই ওই এলাকার সারের চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির প্রয়োজনীয়তাও হিসাব করা যাবে। একই সঙ্গে কৃষকের তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করা গেলে সার বিতরণে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।
বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম এবং বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিলারদের গুদামের মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কেউ মজুত করছে কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে নতুন ব্যবস্থায় তা শনাক্ত করা সহজ হবে।
তিনি জানান, পবায় পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনিয়ম শনাক্তের পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানো সহজ হবে।


