
মেসির বিদায়ে রোনালদো, ‘তুমি এমন এক ইতিহাস গড়েছ’
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২১ বছরের অধ্যায় শেষ করেছেন লিওনেল মেসি। একদিন না পেরোতেই তিনি নীল-সাদা জার্সিকে মিস করতে শুরু করেছেন। এদিকে, তার দুই বছর আগে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে পর্তুগাল কোচের বিভেদের বিষয়টি সম্প্রতি তুমুল আলোচনায়। যার জেরে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্পও ছেড়ে যান। এরই মাঝে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মহাতারকার অবসরের সিদ্ধান্তে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রোনালদো।

মেসি অবশ্য আগস্টের শেষদিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চেয়েছিল ঘরের মাঠে বিদায়ী ম্যাচ খেলে যেন স্বদেশি ভক্তদের সামনে বিদায় নেন এলএমটেন। সে পরিকল্পনায় গতকাল (বুধবার) বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামেন। পেয়েছেন বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনা।
পরবর্তীতে নিজের ইনস্টাগ্রামে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের কিছু স্থিরচিত্রের সঙ্গে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন মেসি। তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল ছিল (জাতীয় দলে) আমার শেষ ম্যাচ এবং নীল-সাদা জার্সিটা গায়ে জড়ানোর অভাব এখনই অনুভব করছি। আমি জানি আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিচ্ছি। এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা, আনন্দ আর কিছুটা বিষাদে ভরা। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, আমার নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল সার্থক।’
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে পরিবারকে নিয়ে হাজির হলেও বাবা ‘হোর্হে মেসিকে মিস করা’ ছাড়া অন্যদের নিয়ে সেভাবে কথা বলেননি মেসি। সেটাই এবার পূরণ করলেন নিজের পোস্টে, ‘আমার আরও অনেক কিছু বলার আছে। আমার মনের সব অনুভূতি শব্দ বা কোনো পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা অসম্ভব। পরিবারকে ছাড়া এই যাত্রা কখনোই সম্ভব হতো না, তারা সবসময় আমার পাশে থেকেছে ও আমাকে সমর্থন জুগিয়েছে। বিশেষ করে সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে, যখন আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।’
বন্ধু-সতীর্থ ও কোচিং স্টাফের পাশাপাশি বিশেষত আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কথা স্মরণ করলেন এই মহাতারকা, ‘আমার বন্ধু ও সতীর্থরা এবং তাদের সঙ্গে থাকা টেকনিক্যাল স্টাফরাও ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি দিয়েগোর (ম্যারাডোনা) কথা ভুলে যেতে চাই না, যিনি আমাদের দেশকে তার প্রাপ্য মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। আমি সবসময়ই বলি, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি আমাদের পাশে থেকে এবং স্বর্গ থেকেও আমাদের সহায়তা করেছেন।’
এ ছাড়া পেশাদার ক্যারিয়ারে খেলা ক্লাবগুলোকেও স্মরণ করলেন এখনও ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ফরোয়ার্ড মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি যেসব ক্লাবের হয়ে খেলেছি, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ তারা সবসময়ই আমার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের জন্য নিজেকে নিবেদিত করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর অবশ্যই, ঈশ্বরের প্রতিও ধন্যবাদ। তার নির্দেশনা ও ইচ্ছা ছাড়া এতদূর আসার স্বপ্ন দেখাও আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। আমি কৃতজ্ঞ, আপনাদের সবাইকে অনেক ভালোবাসি। আপনাদের মিস করব এবং সবসময় আমার ও আমাদের পাশে থাকায় ধন্যবাদ।’
মাঠের পারফরম্যান্সে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন মেসি ও রোনালদো। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার সাজানো দুজনকেই অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন মহাতারকার বিদায়বেলায় শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি রোনালদো। মেসির ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পর্তুগিজ সুপারস্টার লিখেছেন, ‘লিও, এত বছর ধরে দেশের হয়ে লড়াই করার পর তুমি এমন এক ইতিহাস গড়েছ যা চিরকাল টিকে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রইল। অনেক ভালোবাসা।’


