
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সূত্র ধরে হত্যার আশঙ্কা রাষ্ট্রপক্ষের, দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন সন্দেহের কথা আগেই আদালতে জানিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। এবার তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর বন্ধু ও স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শুনানিতে এ আশঙ্কার কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানি শেষে দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দীপের প্রথম দফার রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার আদালতে বলেছিলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করেছিলেন তাহসিফ। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তাঁরা প্রথমে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। পরে টঙ্গীর মাজার বস্তি হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে যান। সেখান থেকে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। একজন নদীতে পড়ে যান, আর দীপ বাসায় ফিরে যান বলে আদালতে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, বন্ধু বা সহকর্মী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পরও দীপের মধ্যে কোনো উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। বিষয়টি কাউকে জানাননি তিনি। পরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথম দফার রিমান্ডে তিনি ভাসা-ভাসা তথ্য দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার জন্য তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শামছুদ্দোহা সুমন আদালতে আরও বলেন, এনায়েত করিম চৌধুরী ও ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের এবং দীপের বক্তব্যে একই ধরনের অস্পষ্টতা ও মোটিভের মিল পাওয়া যাচ্ছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের ধারণা। এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পিত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে আদালতে হাজির করে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৩১ অক্টোবর আদালত তাঁর প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসার নিচে নামেন তাহসিফ। এরপর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তিনি। ২৯ অক্টোবর দীপ দাবি করেন, একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন দীপ। পরে তাঁকে নিয়ে টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
এদিকে, এ মামলায় তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে গত রোববার চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।


