
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত তরল ও পানিশূন্যতা বজায় রাখা, বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং জটিলতার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC) ডেঙ্গু রোগীদের পর্যাপ্ত তরল পান ও বিশ্রামের পাশাপাশি জ্বর ও ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

ডেঙ্গুতে জ্বর ও শরীরব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAID) এড়িয়ে চলতে হয়। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তরলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতা ঠেকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রোগীর সহনীয়তা অনুযায়ী পানি, ওরস্যালাইন, ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়, স্যুপ ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করা দরকার। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। WHO-র নির্দেশনায় ডেঙ্গু রোগীদের ওরস্যালাইন, ফলের রস ও অন্যান্য তরল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (Iris)
খাবারের ক্ষেত্রে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। ভাত, খিচুড়ি, ডাল, নরম সবজি, স্যুপ, ফল, ডিম, মাছসহ রোগীর সহনীয় অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেতে পারে। ক্ষুধা কম থাকলে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া সুবিধাজনক।
প্লেটলেট কমলেই আতঙ্ক নয়
ডেঙ্গুতে রক্তের প্লেটলেট কমে যেতে পারে। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার, ফলের রস বা ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। মিষ্টি কুমড়া, লেবু, আমলকী, ডালিম, অ্যালোভেরা কিংবা পেঁপে পাতার রস খেলেই প্লেটলেট দ্রুত বাড়বে—এমন দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।
বিশেষ করে পেঁপে পাতার রসকে ডেঙ্গুতে প্লেটলেট বাড়ানোর নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তপাতের লক্ষণ, পানিশূন্যতা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করেই চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
জ্বর কমলেই বিপদ কেটে যায় না
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—জ্বর কমে গেলেই রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। WHO ও CDC বলছে, জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি, পায়খানায় রক্ত বা কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর ডেঙ্গুর ইঙ্গিত হতে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তের পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাই নিরাপদ পথ।
খাবারে কী খেয়াল রাখবেন
ডেঙ্গু রোগীর জন্য খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরে পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টি নিশ্চিত করা। সহজপাচ্য খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত মসলাদার বা রোগীর পেটে অস্বস্তি তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্লেটলেটের একটি সংখ্যা দেখে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ঘরোয়া উপায়ের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ, পর্যাপ্ত তরল, বিশ্রাম এবং বিপদের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


