
ছোট ভাইয়ের চাকরির আশ্বাসে সাত লাখ টাকা দিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী সুপ্রিয়া মজুমদার ফ্লোরা। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সেই চাকরি। ফেরত পাননি টাকাও। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন তিনি। গুন্ডা-পাণ্ডা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এই ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও যুবদলের উপজেলা আহবায়ক। এ ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ৪৪ ধারা অনুযায়ী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সুপ্রিয়া মজুমদার ফ্লোরা।

জিডির বিবরণে সুপ্রিয়া উল্লেখ করেন, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। সে সুবাদে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডের হোটেল টাওয়ার ইনে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে একটি অনুষ্ঠানে নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হওয়া এবং কথাবার্তার মাধ্যমে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
আরও বলা হয়, নুরুল ইসলাম নিজেকে সরকারদলীয় বড় নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলতেন। একপর্যায়ে সুপ্রিয়ার ছোট ভাইয়ের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ প্রলোভনে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট সাত লাখ টাকা নেন নুরুল ইসলাম।
টাকা নেওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও তার ভাইয়ের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি টাকা ফেরত চাইতে থাকেন। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযাগে করেন।
গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাউজানের কিং অব রাউজান কনভেনশন হলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতে যান সুপ্রিয়া। সেখানে নুরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হলে তিনি ভাইয়ের চাকরির জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে গুন্ডা-পাণ্ডা দিয়ে তাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার মরদেহের কোনো চিহ্নও পাওয়া যাবে না বলে ভয় দেখানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংগীতশিল্পী সুপ্রিয়া মজুমদার ফ্লোরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, হোটেল টাওয়ার ইন এ গান করার সুবাদে আমার সাথে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয়। ছোট ভাইকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ৭ লাখ টাকা নেয়। বিভিন্ন জায়গা ম্যানেজ করার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেয়। একটা সময় পর সে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল নাম্বার ব্লক করে দেয়। এখন আমার চাওয়া হচ্ছে, আমি আমার টাকা ফেরত চাই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


