
২০ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক
খুলনায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রূপসা উপজেলায় আঠারোবাঁকী নদী থেকে দুই যুবকের গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের মোছাব্বরপুর গ্রামের (সিংহের চর এলাকা) একটি কলাবাগানের পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর নতুন করে এই জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে ও জেলখানা ঘাটের মাঝি মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) এবং সিংহের চর এলাকার রেজাউল করিম (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত সোহাগ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী দল ‘বি কোম্পানি’র সাথে জড়িত ছিলেন।
কাদা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আঠারোবাঁকী নদীর চরে কাদার মধ্যে প্রথমে একটি মরদেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর কিছুক্ষণ পরই কাছাকাছি এলাকায় আরও একজনের মরদেহ ভেসে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই তীরে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে রূপসা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ দুটি পানি ও কাদা থেকে উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ দুটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। উদ্ধারকালে দুজনেরই গলাকাটা ছাড়াও মাথায় ধারালো অস্ত্রের রক্তাক্ত আঘাত ও গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুম খান দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে গত দুই দিনে খুলনায় একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা থানার রায়মহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাঁতী দলের নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার আগের দিন শনিবার রাতেও নগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে চাপাতির কোপে খুন হন শহিদুল (৩৫) নামে এক যুবক।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই চরে মিলল আরও দুই যুবকের গলাকাটা মরদেহ। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি পূর্বশত্রুতা নাকি কোনো অভ্যন্তরীণ অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


