
ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন বাড়াতে এবার জাটকা রক্ষায় টানা আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশের সাগর ও নদীতে ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত বন্ধ থাকবে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ বা জাটকা আহরণ, পরিবহণ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ (২৩ আশ্বিন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় ডিমওয়ালা ইলিশ থেকে নিঃসৃত ডিমের পরিস্ফুটনের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনা দেশের উপকূলীয় নদ-নদী ও মোহনায় বিচরণ করছে। এসব পোনা বয়সের নির্দিষ্ট সময়, অর্থাৎ ৫ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত এসব জলাভূমিতে অবস্থান করে।
মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এ সময় নিষিক্ত ইলিশের পোনা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পোনাগুলো নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে।
এ উদ্দেশ্যে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য অধিদপ্তর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে।


