
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৫ শিক্ষক-গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি তালিকায় তাঁদের নাম উঠে এসেছে।
এবার বাংলাদেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে ১৫ জন গবেষক নিয়ে রুয়েট দেশের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। একই সংখ্যক গবেষক নিয়ে বুয়েটও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

এলসেভিয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় রুয়েটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন গবেষক বর্তমানে দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তালিকা তৈরিতে গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তালিকায় স্থান পাওয়া রুয়েটের ১৫ শিক্ষক-গবেষক হলেন—মহিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল রহমান বাদল, সজল কুমার দাস, মো. আহসান হাবিব, মো. আল মেহেদী হাসান, মো. রবিউল হাসান, মোহাম্মদ উজ্জল হোসেন জোয়ার্দ্দার, আবদুল্লাহ আল কাফি, আবদুল খালেক, মো. গোলাম কিবরিয়া, মো. আসলাম মোল্লা, মনজুর মোরশেদ, মো. নাহিদুজ্জামান, মো. মাসুদ রানা ও তুষার কান্তি রায়
তাঁদের মধ্যে মহিউদ্দিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, মো. নাহিদুজ্জামান আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়, আবদুল্লাহ আল কাফি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন, মো. মাসুদ রানা ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং তুষার কান্তি রায় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বলে জানা গেছে। অন্যরা রুয়েটে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
গবেষণার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য
রুয়েটের তালিকাভুক্ত গবেষকদের কাজের ক্ষেত্রও বেশ বৈচিত্র্যময়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, রোবোটিকস, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণায় তাঁরা কাজ করছেন।
মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. সজল কুমার দাসের গবেষণার ক্ষেত্র রোবোটিকস, অরৈখিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও মেকাট্রনিকসের বিভিন্ন প্রয়োগ। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা সংকেত প্রক্রিয়াকরণ, স্মার্ট গ্রিড এবং নবায়নযোগ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন।
যোগাযোগপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রেও রুয়েটের গবেষকদের উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। ড. মো. নাহিদুজ্জামানের গবেষণার বিষয় বেতার যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও সংকেত প্রক্রিয়াকরণ। ড. মো. রবিউল হাসান কাজ করছেন অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ও ফটোনিকস নিয়ে। তুষার কান্তি রায়ের গবেষণার ক্ষেত্র বেতার নেটওয়ার্ক এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের (৫জি ও ৬জি) যোগাযোগব্যবস্থা।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে ড. আবদুল্লাহ আল কাফির গবেষণার বিষয় কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ ও মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগ। ড. মো. আল মেহেদী হাসান পদার্থবিজ্ঞান ও ন্যানোপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করছেন। আর ড. মো. আহসান হাবিবের গবেষণার ক্ষেত্র ফলিত অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণা।
দেশে গবেষক বেড়েছে ২১ শতাংশ
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭ জন গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন বা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ।
গবেষকের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম, যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে। একই সময়ে তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন গবেষক নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান প্রথম। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) থেকে ২০ জন গবেষক তালিকায় রয়েছেন। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চতুর্থ অবস্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই ১৬ জন করে গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বুয়েট ও রুয়েট। দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৫ জন করে গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন গবেষক রয়েছেন। শীর্ষ তালিকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে।
রুয়েটের ১৫ শিক্ষক-গবেষকের এ স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান তুলে ধরছে। প্রকৌশল, জ্বালানি, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ন্যানোপ্রযুক্তি ও সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতাকেও সামনে আনছে।


