
১০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা এমওপি সার উদ্ধার, কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি
মো. আব্দুল্লাহ আল শামস, দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতাঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সুকুমার নামে এক ভ্যানচালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা সারের মধ্যে ১০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে সারগুলো উপস্থিত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উজানখলসী শেখের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যানচালকসহ ভ্যানটি আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারগুলো জব্দ করেন। এ সময় ভ্যানচালক সুকুমারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্যানচালক সুকুমার উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের সুশীল চন্দ্রের ছেলে। তিনি জানান, অপরিচিত এক যুবক দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে তাহেরপুর বাজারের তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ২০ বস্তা সার পরিবহনের জন্য তাঁর ভ্যান ভাড়া করেন। পরে উজানখলসী শেখের মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় যুবক জুয়েল খায়রুলসহ কয়েকজন তাঁকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
স্থানীয় কৃষক আবু সালেহ বলেন, “কৃষকেরা ঠিকমতো সার পাচ্ছেন না। অথচ অসাধু সার বিক্রেতারা সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) ড. মো. আব্দুল মজিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। সার নিয়ে অনিয়ম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


