
রাজধানীর উত্তরা সংলগ্ন তুরাগের বাউনিয়া কালীবাড়ী সড়ক এখন মরণফাঁদ। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি, শুকনো মৌসুমে ধুলো আর খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি ৫২ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাউনিয়া কালীবাড়ী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট ইউসিভি চত্বর মিরপুর সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ এক যুগেও এই সড়কটিতে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া মিলেনি। পিচ এবং আর সি সি ঢালাই উঠে গিয়ে ইট এবং রড বের হয়ে গেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা উল্টে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। একটা রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার উপায় নেই। গর্তে পড়ে রিকশা উল্টে যায়। ১০ বছরে এই রাস্তার কোনো সংস্কার হয় নাই। কত এমপি মন্ত্রী এলো গেলো কেউ কোন কাজ করলো না। সবাই বড় বড় বক্তব্য দিয়ে বলে কিছুদিনের মধ্যে আপনাদের এই রাস্তাটি করে দিবো কিন্তু তাদের কথায় কাজে কোন মিল পাওয়া যায় না।
আরেক ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী সুমাইয়া মানবকন্ঠকে জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। সড়কটিকে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। পানি নামতে ২-৩ দিন লাগে। তখন দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হাটাই যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তরা ১১, ১২, ১৪ নম্বর সেক্টরের ভেতরের রাস্তা ঝকঝকে হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অবহেলায় বাউনিয়া-কালীবাড়ী সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত। এই সড়কটিই উত্তরা থেকে মিরপুর যাওয়ার সবচেয়ে শর্টকাট হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো গাড়ি এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই চলাচল করে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসি ৫২ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনার পর টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের?


