
৩৮ হাজার ৯৭০ কৃষক পাচ্ছেন সহায়তা রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন কৃষকের কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন তিনি। এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারে বোতাম চেপে কৃষকদের হিসাবে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষকের হাতে চেক দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে দেশের ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক—নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৪০ লাখ কৃষকের কাছে এ বছর কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণে সহায়তা, ফসলের বিমা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ এবং আবহাওয়ার তথ্য পাওয়ার সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কৃষিতে পানির সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খাল খনন ও নদী সংস্কারের মাধ্যমে সেচের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সাত মাসে ছয়টি মিল-কারখানা বিভিন্ন উদ্যোক্তার কাছে চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়ানো।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে শিশু, নারী ও কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা এবং ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়—এমন বিশৃঙ্খলা পরিহার করা প্রয়োজন। কয়েকটি কলকারখানায় অস্থিরতা তৈরিতে পলাতক স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, নেসকোর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
বক্তব্যের শেষে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।


