
রাকিবুল ইসলাম
রাজশাহীতে ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘মেধা ও সৃজন’ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রদর্শনীতে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরেছে শিক্ষার্থীরা। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিভিন্ন সমস্যার বিকল্প সমাধান নিয়ে তৈরি বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল ও রোবট প্রদর্শন করে তারা। পাশাপাশি ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি উপস্থাপন করেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর)২০২৬ সকাল ১০টায় স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ উৎসবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মোসা. নুরজাহান বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্কুলটির চেয়ারম্যান রমেন্টু চাকমা।
উৎসবের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোবট ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যার বিকল্প সমাধান নিয়ে তৈরি করা হয় একাধিক মডেল। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের সমস্যা চিহ্নিত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়াস তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা।
তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ও কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সরকারি দল এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিরোধী দলের হয়ে অংশ নেয়। প্রাণবন্ত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে নিজেদের বক্তব্য, যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে তাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, তাৎক্ষণিক চিন্তাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নৃত্য, ছড়া, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাহিত্য রচনায় অংশ নেয়। পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানবিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মা-বাবার সেবা করতে হবে। জীবনে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অর্জনে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ক্যামব্রিয়ানের প্রতি শুভকামনা রইল।”
আয়োজকেরা জানান, পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, নাচ, গান এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্লে থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তি পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের বেশি পাওয়া ১৫০ শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়।
অভিভাবকেরা জানান, স্কুলটির শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের আচরণ ও নিয়মশৃঙ্খলা তাঁদের আকৃষ্ট করেছে। মানসম্মত শিক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।



