
সিরাজ শিকদারের ভাই’ পরিচয়ে ফোন, হুমকির অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পাঁচ শিক্ষককে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির’ সদস্য এবং প্রয়াত চরমপন্থি নেতা সিরাজ শিকদারের ভাই পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপরিচিত নম্বর থেকে কয়েক দফা ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেওয়া হয় হুমকি। এ ঘটনায় নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হোসেন মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন জিডি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন—সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হোসেন ও অধ্যাপক কৌশিক সরকার।
অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, কয়েক দিন ধরে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে টাকা-পয়সা চাওয়া হচ্ছিল। এ সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষকও একই ধরনের ফোন পেয়েছেন।
থানায় জিডি করা অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, তাঁকে পরপর দুবার ফোন করা হয়। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার ফোন আসে। দীর্ঘ কথোপকথনের একপর্যায়ে কলদাতা জেলে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের কথা বলে তিনি কত টাকা দিতে পারবেন, তা জানতে চান। এ সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোট ভাই বলে পরিচয় দেন।
অধ্যাপক শাহরিয়ার আরও বলেন, পুলিশের মাধ্যমে নম্বরটি শনাক্ত করে জানতে পেরেছেন, কলটি মাদারীপুর থেকে করা হয়েছে। যে সিম নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছে, সেটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির পরিচয়ে নিবন্ধিত।
ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাকে ফোন দিয়ে সর্বহারা পরিচয় দেওয়া হলে আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে কল কেটে দিই। পরে জানতে পারি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষকও এ ধরনের ফোন পেয়েছেন।’
গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল বলেন, ‘অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয়ে টাকা-পয়সা চাওয়া হয়। দুই-তিনবার ফোন দেওয়ার পর আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর ফোন করে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ পাওয়া আরেক শিক্ষক নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক সরকারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরএমপি মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন কালবেলাকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় একটি জিডিও করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগটি তদন্ত করে কলদাতাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে কলদাতাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


