
টানা সাত মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফের পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার দুই দেশের কর্মকর্তারা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের দেওয়া সাত দিনের একটি প্রস্তাব, যাতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আলোচনা সম্পর্কে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণকে ভিত্তি করেই পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে তেহরান প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠায়।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্ত তুলে ধরেছেন।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিলে তেহরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে পারে। এর বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়গুলো প্রস্তাবে রয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথাও বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরানের কাছে সেই সমাধানের একটি প্রস্তাব রয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে মার্কিন পক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপরও পরদিন অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
সোমবারও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছে। তবে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। ফলে এটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সোমবার কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার পর তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তির প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়
এ অবস্থায় সংশোধিত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা কতটা এগোয়, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


