
বিনোদন ডেস্ক
দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। গত ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এবার স্বামীর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত জায়গায় গিয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন রশ্মিকা। বিজয়ের বেড়ে ওঠা, স্কুলজীবন ও পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পুট্টাপার্থি (Puttaparthi) সফরে গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সফরের অনুভূতি প্রকাশ করে মন ছুঁয়েছেন ভক্তদের।

রশ্মিকা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিজয় ও তাঁর বন্ধুদের মুখে পুট্টাপার্থির স্কুলজীবনের নানা গল্প শুনে আসছেন তিনি। ভালোবেসে তাঁদের ‘পার্থি বয়েজ অ্যান্ড গার্লস’ বলে ডাকতেন অভিনেত্রী। অবশেষে সেই জায়গায় গিয়ে যেন নিজের অনুভূতির এক অপূর্ণ অধ্যায়ের সন্ধান পেয়েছেন তিনি। স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, ডরমিটরি এবং এইচএম আন্টির সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। জায়গাটির শান্ত পরিবেশ তাঁর মনে তৈরি করেছে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি।
বিজয় ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বন্ধুদের মধ্যেও যে ভালোবাসা, মানবিকতা ও দয়ার প্রকাশ দেখা যায়, তার শিকড় কোথায়—পুট্টাপার্থির স্কুলে গিয়ে যেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন রশ্মিকা। তাঁর উপলব্ধি, শৈশবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চারপাশের পরিবেশ মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সফরের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ছোট ছোট শিশুদের ভক্তিভরে বেদপাঠ ও ভজন গাইতে দেখা। শিশুদের এই পরিবেশনা অভিনেত্রীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর কাছে এটি কেবল একটি স্কুল পরিদর্শন নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সেবা ও মানবিকতার মূল্যবোধকে নতুন করে উপলব্ধি করার অভিজ্ঞতা।
‘সবাইকে ভালোবাসো, সবার সেবা করো’—এই বাণীটি নিজের হৃদয়ের খুব কাছের বলে উল্লেখ করেছেন রশ্মিকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের এই বিশেষ সময়ে পুট্টাপার্থি সফর তাঁকে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও মানসিক প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে। কিছু জায়গা নীরবে মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। আর প্রিয় মানুষের শিকড়কে জানার মধ্য দিয়েই তাকে আরও গভীরভাবে বোঝা সম্ভব—সফরের অভিজ্ঞতা থেকে এমন উপলব্ধির কথাই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
এদিকে বিজয় ও রশ্মিকাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহের মধ্যেই তাঁদের নতুন ছবি ‘রণবালি’ (Ranabaali) নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই রশ্মিকার এই আবেগঘন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের নজর কেড়েছে। পর্দার বাইরের এই ব্যক্তিগত মুহূর্ত তারকা জুটির সম্পর্কের আরেকটি মানবিক দিক তুলে ধরেছে।


