
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আইনের ওপর আস্থা নেই জানিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেছেন, ‘বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করি না, আইনের ব্যাপারে আমি নাস্তিক।’ তবে আনুষ্ঠানিকতার জন্য একটি মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সালমান মুক্তাদির।
জানা গেছে, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের পাশে দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্তের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাউজিং সোসাইটির অফিস থেকে প্রায় এক কোটি টাকা লুটের অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় ভাঙচুর করা হয়েছে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও।
অভিযোগ রয়েছে, স্টুডিওতে থাকা কর্মীদের মারধর করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে ফিরে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যাই ঘটে রাজনৈতিকভাবেই ঘটে। এখানে আর কোনো পার্সোনাল গ্রাজ (ব্যক্তিগত আক্রোশ) কিছু নেই। প্রত্যেকটা বাচ্চা থেকে বড় পর্যন্ত, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাংলাদেশে সবই রাজনীতি।’
নিজের কর্মী, সদস্য ও অংশীদারদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দিতে চান না জানিয়ে সালমান বলেন, ‘আমি যদি এখন ইমোশনালি ভেঙে পড়ি। আমার কর্মীরা, আমার মেম্বাররা, আমার যত পার্টনাররা সবাই ভেঙে পড়বে। এটা আমি চাই না।’ স্টুডিওতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, সেখানে ক্লায়েন্টদের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ছিল। স্টুডিওতে নিয়মিত বিভিন্ন ফুটেজ ও শুট করা হতো বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, ‘একটি শুট করতে কত খরচ হয়, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০ জন ক্লায়েন্টের সবকিছু নিয়ে গেলে কতটা ক্ষতি হতে পারে, সেটা সহজেই বোঝা যায়।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের পর বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন।
হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির পরও নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘আমি কন্টিনিউ করবো। আই উইল বি সালমান মুক্তাদির। আমাকে থামাতে পারবে না। কোনোভাবেই থামবো না।’ সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কনটেন্ট তৈরি করবেন এবং ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজও করবেন। আগের মতো সুন্দর ও গোছানোভাবে কাজ করতে না পারলেও থেমে থাকবেন না বলে জানান তিনি।
সালমান বলেন, ‘আমার প্যাশন চালিয়ে যাবো। দেশ থেকে না হলেও দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাবো।’ ঘটনাটিকে শুধু রাষ্ট্র বা কোনো একটি পক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চান না সালমান মুক্তাদির। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতির দায় দেশের প্রত্যেক মানুষের এবং রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন যা কিছু হচ্ছে, এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যর্থতা নয়, এটা দেশের প্রত্যেক মানুষের ব্যর্থতা। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরও ব্যর্থতা। এটা আমারও ব্যর্থতা।’ নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যখন নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করছি, তখন আমি মনে করি রাজনৈতিক দলের প্রত্যেক সদস্যও স্বীকার করতে পারেন যে তারা ব্যর্থ, তারা অযোগ্য।’
বড় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে সালমান বলেন, ‘আমি যেমন একজন অযোগ্য নাগরিক। যদি নিজের এই ব্যর্থতা স্বীকার করার সাহস দেখাতে পারি, তাহলে বড় বড় চেয়ারে বসা ব্যক্তিরাও বলতে পারেন, হ্যাঁ, আমি একজন অযোগ্য নেতা, অযোগ্য শেয়ারহোল্ডার বা অযোগ্য অ্যাডমিন। তারাও এটা বলার সাহস দেখাতে পারেন।’



