
নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ আমদানিতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে অন্যান্য কোম্পানি ও দেশের নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।

নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সংশ্লিষ্ট উপকরণ আমদানিতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটির (বিআইএস) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতাভুক্ত পণ্য ও দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এই সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা-ভিত্তিক চিকিৎসা, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস, রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত কিছু চিকিৎসা পণ্য এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট উপকরণও নির্দিষ্ট শর্তে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।
এর আগে গত ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রোক্লেমেশন ১১০২০’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এসব ওষুধ ও উপকরণের উৎপাদন বাড়াতে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা।
তবে নতুন কাঠামোয় সব ওষুধ এই শুল্কের আওতায় পড়ছে না। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ বর্তমানে এই সেকশন ২৩২ শুল্কের আওতামুক্ত।
মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় থাকা বিশেষায়িত পণ্যগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধা পাবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোর চুক্তি থাকা অথবা পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া অন্যতম শর্ত।
মঙ্গলবার থেকে অধিকাংশ কোম্পানির জন্য নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এপ্রিলের ঘোষণাতেও উল্লেখ ছিল।
বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রভাব নির্ভর করবে কোন কোন বাংলাদেশি ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ নির্ধারিত বিশেষায়িত পণ্যের সংজ্ঞা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে তার ওপর। তাই এটিকে বাংলাদেশের সব ধরনের ওষুধ রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


