
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন করে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনাকে ‘জাতির সঙ্গে তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ প্রধানের দাবি, সংবিধান সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে গণভোট হয়ে গেছে এবং জনগণ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। তাই নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

রাশেদ প্রধান বলেন, সংবিধান ‘সংস্কারের’ দাবি ছিল, নিছক ‘সংশোধনের’ নয়। তার অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের কথা বলে নতুন করে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ‘স্বৈরতন্ত্রের আলামত’।
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে জাগপা মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি তোলার সময় বিএনপিই আলাদা গণভোট আয়োজন করলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হবে বলে যুক্তি দিয়েছিল। তখন জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এখন নতুন করে গণভোট আয়োজন করলে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় হবে না কি—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের গণভোট হয়ে গেছে। সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, নতুন করে গণভোট আয়োজনের পরিবর্তে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।
এদিকে রোববারই সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধানে মৌলিক কোনো সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ফলে সংবিধান সংশোধন ও গণভোটের প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকারপক্ষ মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের অনুমোদনের কথা বলছে, অন্যদিকে জাগপা নতুন করে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাশেদ প্রধান তার বিবৃতিতে বলেন, নতুন গণভোটের প্রয়োজন নেই; বরং ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা উচিত।


