
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে ফেরির টিকিট কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যানবাহনের চালকেরা। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। এতে প্রতিদিন এ নৌপথ ব্যবহারকারী যানবাহনের চালকদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন চালক এসব অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতি টের পেয়ে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন কয়েকজন চালককে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক মো. ইউনুস কাজী বলেন, এ পথে চলাচল করতে গেলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিতে হয়। তা না দিলে ঝামেলা করা হয়। তাঁর ভাষ্য, টিকিটে ভাড়া লেখা ১ হাজার ৬৭৫ টাকা হলেও তাঁকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে আনসার সদস্যরা হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী আরেক ট্রাকচালক মো. মনির শেখ বলেন, তাঁর টিকিটে ভাড়া লেখা ছিল ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু তাঁকে দিতে হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। কেন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা না জানলেও বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঢাকাগামী কাভার্ড ভ্যানচালক মো. জয় বলেন, তাঁর টিকিটে নির্ধারিত ভাড়া ২ হাজার ২৫০ টাকা লেখা থাকলেও নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তবে বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন বেপারী অভিযোগ করেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। প্রায় প্রতিটি গাড়ির চালককেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
তাঁর দাবি, বাড়তি টাকা দিতে না চাইলে দালাল চক্রের সদস্য ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে চালকদের হয়রানি করা হয়। সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দৌলতদিয়া ঘাট-সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, এ নৌপথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ যানবাহন পারাপার হয়। যানবাহনের চাপ বাড়লে পারাপারের সংখ্যা আরও বাড়ে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে যানবাহন চলাচল কমে যায়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটের টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো রয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে এবং এর প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
চালকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


