
দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পত্রিকাটির পাঠক, সাংবাদিক, পরিবেশক, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুসংহত করে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সংবাদ প্রচার ও প্রসারের গতি বাড়লেও গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং গণতন্ত্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহের পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা এবং মিথ্যা, অন্যায়, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাকে গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব, নৈতিকতা ও জনআস্থা সমুন্নত রেখে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
দৈনিক কালবেলার সংবাদ পরিবেশনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পত্রিকাটি সংবাদ পরিবেশনে নিজস্ব অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বস্তুনিষ্ঠ, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধেও পত্রিকাটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে জনমত গঠনের পাশাপাশি দৈনিক কালবেলা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।
বাণীর শেষাংশে দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।


