
দখলদারের তালিকা ১১০, উচ্ছেদ না হতেই নতুন করে দখল
মৌসুমী দাস, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ দখলদারের তালিকা হয়েছে একাধিকবার, সর্বশেষ তালিকায় নাম রয়েছে ১১০ জনের। কিন্তু পুরোনো দখল উচ্ছেদ না হতেই রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীর জায়গায় শুরু হয়েছে নতুন দখল। গত এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবন ও দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার শিমুলিয়া, পুঠিমারি ও বাটিকামারী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর জায়গায় নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকটি স্থানে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ভবনের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। কোথাও ভবনের পরিধি বাড়ানোর জন্য রডও বের করে রাখা হয়েছে।
শিমুলিয়া এলাকায় নদীর ভেতরে আরসিসি ঢালাই দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন মিনারুল ইসলাম। নদীর জায়গায় নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, কত মানুষই তো ঘরবাড়ি করেছে। কতজনকে বাধা দিয়েছেন? পুরোটা নদীর জায়গা নয়।
পুঠিমারি-বাটিকামারী এলাকায় নদীর জায়গায় দুই কক্ষের ঘর নির্মাণ করছেন আল আমিন। একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া এবং অন্যটিতে নিজেদের দোকান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, ‘জায়গাটি নদীর। এভাবে দখল হতে থাকলে নদীর তীর বলে কিছুই থাকবে না।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বড়াল নদীর দখলদার উচ্ছেদে গত দুই দশকে একাধিকবার তালিকা করা হয়েছে। ২০০৫ সালে ৬৮ জন, ২০০৮ সালে ১১৩ জন, ২০১৯ সালে ৫৬ জন এবং ২০২৫ সালে ১০১ জন দখলদারের তালিকা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশে হালনাগাদ করা তালিকায় ১১০ জন দখলদারের তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের অনেকের নাম এ তালিকায় নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চারঘাট উপজেলা সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, দখলকারীদের উচ্ছেদ তো দূরের কথা, নতুন যারা দখল করছে তাদের বাধা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি হিসাবে দখলদার শতাধিক হলেও বাস্তবে সংখ্যা চার শতাধিক।
রাজশাহী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত আবারও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।
চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী বলেন, দখলকারীদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পদ্মা ও যমুনার সংযোগ রক্ষাকারী একসময়ের প্রবহমান বড়াল এখন দখল-দূষণে সংকুচিত হয়ে স্থানীয়দের কাছে ‘মরা বড়াল’ নামে পরিচিত। নতুন দখল বন্ধ না হলে নদীটির অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।


