
আটক যুবকের নাম আবু বক্কর সিদ্দিকী। তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের চন্দ্রিমা থানার খড়খড়ি কচুয়াতৈল গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুবককে শনাক্ত ও আটকের জন্য রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথ অভিযান চালায়। আটকের পর তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি দিয়ে মাইশা আনজুম নামের এক ব্যক্তি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি রাজশাহী সফরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনের জন্য বুলেটপ্রুফ বাস ব্যবহার না করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছোট বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিকী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। একই পোস্টে মরিয়ম আক্তার নাতাশা নামের একজন মন্তব্য করেন, রাজশাহীর মানুষ এত খারাপ নয় যে বুলেটপ্রুফ বাসের প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে করা মন্তব্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজিউর রহমান আরও বলেন, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আটক যুবকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে রুয়েটের একটি ছোট বাসে করে তিনি নগরীর ভিআইপি সড়ক হয়ে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করেন।


