
নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘাত অব্যাহত থাকায় ইয়েমেনে গত এক সপ্তাহে নতুন করে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আইওএম জানায়, জুনে পশ্চিম উপকূলে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের আটটি প্রদেশে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩০৮ জন বা ২৪ হাজার ২১৮টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহেই ঘরছাড়া হয়েছেন ১৫ হাজার ৮৭০ জন। এই সংখ্যা মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের ১২ শতাংশেরও বেশি।
ইয়েমেনে আইওএমের মিশনপ্রধান আবদুসাত্তর এসোয়েভ বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহেই আমরা এমন হাজার হাজার মানুষের হিসাব পাচ্ছি, যারা সবকিছু পেছনে ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, এসব পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে সন্তানদের নিরাপদ রাখতে পালিয়ে যাওয়া বাবা-মা, দূরে যেতে অক্ষম বয়স্ক মানুষ এবং এমন পরিবার, যাদের আগে থেকেই সম্পদ ছিল খুবই সীমিত। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় তাদের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে ত্রাণ কার্যক্রমও একই গতিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় হয়েছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে ৮১ হাজার ৪৪৪ জন ঘরছাড়া মানুষ রয়েছেন, যা দেশটির মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের অর্ধেকেরও বেশি। এক সপ্তাহেই প্রদেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার বেড়েছে।
এ ছাড়া লাহজে ৩৪ হাজার ৮৬০, এডেনে ১২ হাজার ৪৫৬, আল-হুদায়দায় ৮ হাজার ২৪৪, আবিয়ানে ৫ হাজার ৫৬৮, হাদরামাউতে ১ হাজার ৯৭৪, মারিবে ৭৫০ এবং আল-মাহরায় ১২ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের তথ্য পাওয়া গেছে।
এক সপ্তাহের হিসাবে সবচেয়ে বেশি নতুন বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে এডেনে। সেখানে নতুন করে ৩ হাজার ৫১০ জন ঘরছাড়া হয়েছেন, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
আইওএম জানায়, তাইজ, লাহজ ও এডেনের স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের আশ্রয় দিচ্ছেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন শুধু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় পূরণ করা সম্ভব নয়।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও সুরক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন, সেসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বেসামরিক মানুষ ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আইওএম।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


