
রাজশাহীতে আলু সংরক্ষণের হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও জেলার অধিকাংশ হিমাগারে নতুন এ ভাড়া কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলু ব্যবসায়ীরা। দ্রুত প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হিমাগার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পবা উপজেলার তকিপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো. আহাদ আলীসহ আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

লিখিত বক্তব্যে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের চিঠি পাওয়ার পর কয়েকটি হিমাগার নতুন নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া শুরু করেছে। এ জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে জেলার প্রায় ৪০টি হিমাগারের অধিকাংশেই এখনো ৫ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া কার্যকর হয়নি।
দ্রুত জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া কার্যকরের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি সব পক্ষকে মেনে চলতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী, কৃষক কিংবা হিমাগার মালিক নির্ধারিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে এর আগে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল। গত ২৬ জুলাই আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে গঠিত রাজশাহী জেলা কমিটি প্রতি কেজি আলুর জন্য ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নামেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সারা দেশের হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজি ৬ টাকা নির্ধারণ করে। তবে রাজশাহীর উৎপাদন ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ সেপ্টেম্বর পবা উপজেলার দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস্ কোল্ড স্টোরেজে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনায় রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আহাদ আলীও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হিমাগারের ভাড়া ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণের কথা জানান।
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বা কৃষকের পক্ষ থেকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইভাবে কোনো হিমাগার মালিক নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর না করলেও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, আলুর হিমাগার ভাড়া দ্রুত কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইতোমধ্যে জরুরি সভার রেজুলেশন ও সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু বাক্কার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।


