
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকার গঠন করলে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে চান দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের দুই মন্ত্রণালয়ের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারে গেলে দলের অন্য নেতাদের কোন কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও নিজের মত তুলে ধরেন এই নেতা।
সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি সরকার গঠন করলে দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। তাঁর ভাষায়, দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার গুরুত্ব বেশি; কোনো একজন ব্যক্তি এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন না।

নিজের পছন্দের মন্ত্রণালয় সম্পর্কে তিনি বলেন, দুটি ক্ষেত্রে তিনি বেশি অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন। এর একটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অন্যটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে হয়। রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে মোকাবিলা ও তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নিজের শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ব্যবসায় শিক্ষায় পড়াশোনা করেছেন এবং চাকরিও করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে এনসিপির অন্য নেতাদের সম্ভাব্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, হাসান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আখতার হোসেন আইন মন্ত্রণালয় এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারবেন। পরিবহন খাতেও দলের একজন নেতার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
দলের মহাসচিব কে হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পাটওয়ারী বলেন, তিনি দ্রুত বর্তমান দায়িত্ব ছেড়ে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে চান। রাজনীতি থেকে আগেভাগে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা রাজনীতিতে একটু আগেভাগেই অবসরে যেতে চাই।’
তবে এনসিপি সরকার গঠন করলে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়নি।


