
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের ‘ভারতীয় আধিপত্য’ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও’ কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের ভারতীয় হস্তক্ষেপ বা দাবিদারত্ব বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—এ বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের এই নেতা। তার দাবি, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের দায়িত্ব কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং স্বাগতিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াত কূটনৈতিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দীনেশ ত্রিবেদী ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন।
খোমেনী ইহসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের নিয়মিত যোগাযোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি সার্বভৌম। এ দেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এখানে কোনোভাবেই ভারতীয় আধিপত্য বরদাশত করা হবে না।’
খোমেনী ইহসান দাবি করেন, তার সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়কার নীতির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ওই সময়ে বাংলাদেশের ওপর ভারতের অতিরিক্ত প্রভাব ছিল। বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে যে ধরনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখছে, তারও সমালোচনা করেন তিনি।
সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদৌস, প্যান ইসলামী মুভমেন্টের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূঁইয়া, আগ্রাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দীন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


