
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নিন্দা জানান। পোস্টে সাদিক কায়েম এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন সদস্যকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা, গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে লেখেন, নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য। তিনি এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া দেশে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক ধীরগতি ও গড়িমসি চলছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার প্রচেষ্টারও নানা ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিক কায়েমের ভাষ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারও নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডাকসুর ভিপি। তাঁর অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটলেও সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট সক্রিয় নয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে সক্রিয় করা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ কিংবা প্রশ্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাদিক কায়েম।
তবে বিমানবন্দরের ঘটনাটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে নেই।


