
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বুলগেরীয় কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ২০২৬ এসব তথ্য জানান।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ক্রাপেতস গ্রামের উপকূলের কাছে একটি জাহাজ ডুবে যায়। বুলগেরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির নাম ‘আজভ কনকর্ড’।

অন্যদিকে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি থ্রি’ নামের আরেকটি জাহাজে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে। জাহাজটিতে থাকা সাত ইউক্রেনীয় ও আট আজারবাইজানি নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কেউ গুরুতর আহত হননি বলে জানা গেছে।
হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি বুলগেরিয়া। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, এ ঘটনার পরিণতি রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে যাচ্ছে। বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার এত কাছে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ঘটনায় মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরও উত্তেজনা বৃদ্ধির আরেকটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
এর এক সপ্তাহ আগে একই এলাকায় ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নয়জন সিরীয় ও একজন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার শস্য রপ্তানিতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


