

এ নিউরোলজিস্ট বলেন, মস্তিষ্ক যখন ক্রমশ ধারাবাহিকভাবে একের পর কাজের মধ্যে পরিবর্তন হতে থাকে, তখন এর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। যা আমাদের মনোযোগের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়, স্মৃতি থেকে তথ্য পুনরুদ্ধারের গতি ধীর করে এবং মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে।
এ ক্ষেত্রে আমাদের জীবনযাত্রার অভ্যাসও বিশাল ভূমিকা পালন করে।
- পরিপূর্ণ মানসিক কর্মক্ষমতার জন্য ৭ ঘণ্টা ঘুম কি যথেষ্ট
আশার খবর হচ্ছে, সঠিক সময় যদি সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে ব্রেইন বার্নআউট থেকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কারণ, সুস্থ অভ্যাসের চর্চা আপনার মানসিক কর্মক্ষমতা বেশ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টার গভীর ঘুম, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ফলমূল, শাক-সবজি, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শরীর হাইড্রেটেড রাখার চেষ্টা করতে হবে। কেননা, হাইড্রেটেড শরীর মস্তিষ্ককে সেরা কর্মক্ষমতায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ক্রমশ মাল্টিটাস্কিংয়ের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দেওয়া, স্ক্রিন আওয়ারে নিয়ম করে বিরতি নেয়া এবং কর্ম-ঘণ্টার পর অফিসের কাজে যোগাযোগের মাত্রায় সীমা নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. নেহা পণ্ডিতা বলেন, মাইন্ডফুলনেস চর্চা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মেডিটেশন আপনার মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। বাসা-বাড়ির বাইরে সময় কাটানো, শখের কাজ করা এবং প্রিয়জনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখাও আবেগীয় ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বেশ সহায়ক।
তবে, টানা দীর্ঘদিনের লক্ষণ বা সমস্যাগুলোকে শুধু অতিরিক্ত ব্যস্ততা বলে কখনো অবহেলা করা যাবে না। যদি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ বা মানসিক ক্লান্তির মতো সমস্যা থাকে কিংবা সমস্যাগুলো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা আপনার দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করে, মেজাজ খিটখিটে করে, ঘুম বা আচরণের পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদিও এসব সমস্যা অনেক সময় পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত প্রদান করে। এরপরও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
- বার্নআউট কমাতে ব্যায়াম কতটা উপকারী
যখন মন ও মস্তিষ্কের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে, তখন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেইন বার্নআউটের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে মানসিক সুস্থতার জন্য আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে। যা তরুণদের দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগী হওয়া, উৎপাদনশীল এবং সহনশীল হতে ভূমিকা রাখবে।


