
স্বাস্থ্য ডেস্ক
সুস্থভাবে খাওয়ার অর্থ শুধু ওজন কমানো কিংবা কঠোর কোনো ডায়েট অনুসরণ করা নয়। বরং প্রতিদিন কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করে শরীর ও মনের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্বও আরও বেড়ে যায়।

পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জির মতে, দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে দিনের প্রতিটি খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তিনি প্রতিদিন সকালে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, এই ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে সারাদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতাও কমে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দিনের বিভিন্ন সময়ে খাবার কীভাবে ভাগ করে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন অঞ্জলি মুখার্জি।
সকালে শুরু হোক পানি দিয়ে
তার পরামর্শ অনুযায়ী, দিন শুরু করা যেতে পারে দুই গ্লাস পানি পান করে। এরপর আমিষভোজীরা ডিম এবং নিরামিষভোজীরা স্প্রাউটস খেতে পারেন। এর সঙ্গে এক গ্লাস সবজির জুস রাখা যেতে পারে।
দুপুরে সুষম খাবার
দুপুরের খাবারে জোয়ার বা নাচনি রুটি, সবজি এবং নিরামিষভোজীদের জন্য ডাল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। আমিষভোজীরা ডালের পরিবর্তে মুরগি বা মাছ খেতে পারেন।
বিকেলের নাশতায় গ্রিন টির সঙ্গে ছোলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রাতের খাবারেও ভারসাম্য
রাতের খাবারে মুরগি বা মাছের সঙ্গে স্যুপ ও সালাদ রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া রুটি, সবজি, ডাল ও সালাদ দিয়েও রাতের খাবার সাজানো সম্ভব বলে পরামর্শ দিয়েছেন অঞ্জলি মুখার্জি।
তার মতে, এভাবে দিনের খাবার পরিকল্পনা করলে প্রতিটি খাবারে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
খাবারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ২৪/৭-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সুষম খাবার হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে, দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, দিনের প্রতিটি খাবারই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি সুযোগ। তাই কঠোর ডায়েটের পরিবর্তে নিয়মিত খাবারের পরিকল্পনা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


