
আবু বকর অনিক, রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম টুকটুকির বিরুদ্ধে ক্রীড়া সফরে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, নিয়মিত কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ এনে অস্থায়ী কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করানো, স্বজনপ্রীতি ও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কোচ ও পরিদর্শকের দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত সফর করা এবং এসব কাজে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কোচ ও পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট লোকবল থাকলেও তাঁদের বাদ দিয়ে রোকসানা বেগম নিজেই এসব দায়িত্ব গ্রহণ করে সফরে যান। কাবাডি, ফুটবল, তায়কোয়ান্দো, নারী ফুটবল ও নারী ভলিবলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাঁর নিয়মিত সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চার দিনের সফরে সাত দিনের বিলের অভিযোগ
অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ক্রীড়া দলের সঙ্গে সফরের টিএ-ডিএ বিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যশোরে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দল চার দিন অবস্থান করলেও সাত দিনের সফর ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে বিল নেওয়া হয়েছে।
সফরে থাকা কয়েকজনের কাছ থেকে চার দিনের ব্যয়ের ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সাত দিনের হিসাব দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
যশোর সফরে রাবির নারী হ্যান্ডবল দলের ম্যানেজার হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা আক্তার শিমা। তিনি বলেন, ‘আমি দলের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে গিয়েছিলাম। তবে ঠিক কতদিন সেখানে ছিলাম, তা এখন সঠিকভাবে মনে নেই। হিসাবের ভাউচার জমা দেওয়ার সময় শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়, তারা ভাউচার তৈরি করবে। পরে একটি ভাউচার তৈরি করে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে সেখানে কত টাকা এবং কোন কোন খাতে ভাউচার করা হয়েছে, তা আমার মনে নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সফরে থাকা এক কর্মচারী বলেন, যাতায়াতসহ চার দিনের সফর বাবদ ভাউচারে ৮ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছিল। তিনি ওই ভাউচারে স্বাক্ষরও করেন। কিন্তু পরে তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১১ হাজার ৩২ টাকা জমা হয়।
বিষয়টি জানতে তিনি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, সাত দিনের হিসাব অনুযায়ী বিল করা হয়েছে।
নিয়মিত কর্মচারীর নামে বরাদ্দ, কাজ অস্থায়ীদের দিয়ে
রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মচারীদের নামে বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ এনে অস্থায়ী কর্মচারীদের দিয়ে তা করানোর অভিযোগও করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত কর্মচারীদের নামে বিল উত্তোলন করে ওই অর্থ নিজে গ্রহণ করার ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন ‘পরিদর্শক’ পদে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, মোট ২৭টি ক্রীড়া আয়োজনের জন্য নতুন পদে প্রায় চার লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদনের বিস্তারিত যাচাই ছাড়া অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনপ্রীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ
ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন ও দায়িত্ব পালনে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন বিভাগের কয়েকজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাবির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম টুকটুকি বলেন, ‘হিসাবের কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেটা আমি করেছি, আমার হিসাব দপ্তর করেছে। আপনি শিমা মেমকে কল দিচ্ছেন কেন?’
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো চার দিনের হিসাবের জায়গায় সাত দিনের হিসাব করেছি, অথবা ছয় দিনের জায়গায় সাত দিনের হিসাব করেছি। যদি হিসাবের ভুল হয়ে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা বেশি নিয়ে থাকি, তাহলে আমি সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দিয়ে দেব।’
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


