
‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবে না জনগণ
পুলিশের মনোবল ফেরানো ও জনবল বাড়ানো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অপরাধী যে-ই হোক, ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে নবনিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আইনি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে সেবা দিয়ে নিজেদের সত্যিকারের ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, তারা কোনো দিন রাজনৈতিক দল ছিল না। তাদের ডিএনএর মধ্যে গণতন্ত্রের বীজ ছিল না। তারা স্বৈরতান্ত্রিক একটি মাফিয়া শক্তি ছিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দলটির শাসনামলে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এত মানুষের প্রাণহানির পরও দলটি ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগ আবার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাবে কি না, তা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আইন অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জনবল বৃদ্ধি এবং যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর কাজ চলছে। পুলিশে এসপি, সাব-ইন্সপেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে তা শনাক্ত করা, আসামি গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ কাজ করছে। দু-একটি ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আরও অনেক দূর যেতে হবে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তাহসিফের মৃত্যুতে তদন্তের অপেক্ষা
তুরাগ নদ থেকে নিখোঁজের এক দিন পর বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তও হবে। তদন্তের অগ্রগতি ও তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে এ মৃত্যুর কোনো বিরোধ বা শত্রুতার সম্পর্ক রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নেও তিনি তদন্তের আগে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঠাকুরগাঁওয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি
ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে তাঁরা প্রতিবেদন পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা
পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা ঘটলেও সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
ছাত্রদল নেতা হত্যায় ছাড় নয়
নাটোরে ছাত্রদলের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনকে পুরস্কার দেন।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। আর ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।


