
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের একটি সাধারণ ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া সমালোচনার জবাবে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা অভিনব ডিজিটাল প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। গত দুই দিনে জনপ্রিয় ব্যান্ড গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ ব্যবহার করে হাজার হাজার শিক্ষিকা ফেসবুকে রিলস প্রকাশ করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হালকা বাতাসে শাড়ির আঁচল উড়িয়ে ধীর পায়ে হাঁটছেন বিউটি রাণী পাল। পটভূমিতে বাজছে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশে সমালোচনা শুরু হলে তার প্রতিবাদে শিক্ষিকারা একই গানে ভিডিও তৈরি করে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন পোস্টে শিক্ষিকারা লিখেছেন, শিক্ষকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের স্বাধীনতাও সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষিকা সামিয়া শিকদার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিউটি রাণী পাল ম্যাডামকে হেনস্তার চেষ্টা সফল হয়নি। আজ প্রতিটি সাহসী শিক্ষকই একেকজন বিউটি রাণী পাল। আমরা মাথা নত করব না, সম্মান নিয়ে এগিয়ে যাব।’ তিনি #BeautyRaniPal, #RespectTeachers, #TeacherUnity, #StandWithTeachers, #EducationMatters এবং #TeachersAreNationBuilders হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
কুমিল্লার শিক্ষিকা লায়লা নূর পিংকি একই গানে ভিডিও প্রকাশ করে লেখেন, ‘ডিজিটাল এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে দিল, যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাবে। সমালোচনা করুন, তবে সেটা হতে হবে যৌক্তিক। আজাইরা সমালোচনার ফল তো দেখলেন? হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সব শিক্ষকরা বেরিয়ে এলেন। যেসব শিক্ষকেরা কোনো দিন লজ্জায় ভিডিও দিতেন না, তাদের প্রতিভাও বিকশিত করে দিলেন। দিনশেষে আমরা সবাই শিক্ষক। আগামীকাল থেকে আমাদের আবার শ্রেণিকক্ষেই দেখবেন।’
পঞ্চগড়ের শিক্ষিকা ফেরদৌস নিজের ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, ‘এরপর শাড়ি পরেই দিব শিক্ষকের সেই ভাইরাল নাচ!’
অন্যদিকে চট্টগ্রামের মতলব বাজারের শিক্ষিকা জয়ন্তী ভৌমিক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘শিক্ষক যদি হাসেন, সমস্যা! সাজেন, সমস্যা! পরিপাটি থাকেন, সমস্যা! ভ্রমণে যান, সমস্যা! ছবি পোস্ট করেন, সমস্যা! তাহলে কি শিক্ষক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ হওয়ার অধিকারটাও জমা দিতে হবে?’
এদিকে বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এনে ভিন্নমত প্রকাশ করছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যে গানটিকে ঘিরে এই প্রতিবাদের ঢেউ তৈরি হয়েছে, সেটি গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু ১৯৮৭ সালের এক শ্রাবণে খুলনায় রচনা করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর সেই রোমান্টিক গানই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের সংহতি ও প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


