
রাজশাহীতে বৈধভাবে ক্রয় করা জমির দখল বুঝে পেতে বাধা, হয়রানি এবং আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর এএইচ টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহমখদুম থানার দুরুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীর বড়বনগ্রাম মৌজার নওদাপাড়া ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নং দাগে মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ (বাংলায় দুই কাঠা ৫ ছটাক) শহীদ জিয়া শিশু পার্কসংলগ্ন টিনশেড বাড়ি ও দোকানসহ একটি জমি গত ৫ মার্চ ২০২৫ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন তার স্ত্রী আরিফা খাতুন, যার দলির নং ১৫৫৮/২০২৫ এবং তিনি দশমিক ৪৯ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন, যার দলিল নং ২০২৩/২০২৫। পরবর্তীতে তার ও তার স্ত্রী আরিফা খাতুনের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দলিল ও খতিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বড়বনগ্রাম মৌজার মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ জমির মালিকানা ১৯৬০ সাল থেকে একাধিক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তর হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালে জাকারিয়া আল-আমিন নিজেই জমিটি মোয়াজ্জেম হোসেন ও চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করেন। পরে উত্তরাধিকার ও বিক্রয় সূত্রে ২০২৫ সালে জমিটি আরিফা খাতুনের নামে নিবন্ধিত হয় এবং নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এরপর জমির দখল বুঝে নিতে গেলে বিএনপির কথিত সহযোগী সংগঠন রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী জাকারিয়া আল আমিন জমির মালিকানা দাবি করে দখল গ্রহণে বাধা দেন এবং আদালতে মামলা রয়েছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাসুদ রানা দাবি করেন, জমির দলিল ও খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানার ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে জাকারিয়া আল আমিন ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি নিজেই ওই জমি মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার স্ত্রী চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি চাশমে আরা বেগম ও তার ছেলে শহীদুল হক হায়দারীর কাছে যায়। তারা ২০২৩ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খানের কাছে এবং পরে ২০২৫ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খান ওই জমি আরিফা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, জাকারিয়া আল আমিন পরবর্তীতে দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আপিল করেও সফল হননি। মহামন্য আদালত বিবাদির পক্ষে রায় দিয়েছে, যার মোকাদ্দমা নং O/C: ১৩৯/১৩। দলিলে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল হওয়ার অভিযোগও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি, যার অঙ্গুলাংক মামলা নং-FP.02.002.2026। আদালতে উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট তার নিজের বলে প্রতীয়মান হয় এবং আদালত বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেন বলে দাবি করেন মাসুদ রানা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের একাধিক রায়, সরকারি রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র থাকার পরও তৎকালীন আওয়ামী লীগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহুর প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে জাকারিয়া আল আমিন জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা চরম হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করা, আদালতের রায় বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জাকারিয়া আল আমিন কালবেলাকে বলেন, আমি মাসুদ রানার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। তারা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, জমির দলিল বাতিলের জন্য আমি মামলা করেছিলাম। জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।
তৎকালীন আওয়ামী লীগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহুর প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করে জাকারিয়া আল আমিন বলেন, আমি অতীত থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।


