
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ৩৫৮ রানে অলআউট হলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। চতুর্থ ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতেও তাদের ধবলধোলাই করেছিল টাইগাররা।
হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম।
তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের হার দেখে সত্যিই হতাশ। তবে বিজয়ী দলকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেই হবে, কারণ তারা পরিপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে।”
আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ আগে ধীরগতির ও টার্নিং উইকেট বানাতো। এখন তারা দারুণ টেস্ট উইকেট প্রস্তুত করছে, যা তাদের দ্রুত উন্নতি করা পেসারদের সহায়তা করছে। বাংলাদেশের পেসাররা পাকিস্তানকে ছাপিয়ে গেছে। এই ফরম্যাটে এখন তারা সেরাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। আর নাহিদ রানার প্রতিভা দেখাটা সত্যিই উপভোগ্য। অভিনন্দন বাংলাদেশ।”
সাবেক টেস্ট ব্যাটার আজহার আলী বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনের দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,“এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। খেলোয়াড় তৈরি, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক সমর্থনের ফল এটি। অন্যদিকে পাকিস্তানকে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এবং বিশেষ করে ম্যাচ ফিটনেস—সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে।”
ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা বাংলাদেশের পরিবর্তনের প্রশংসা করে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রমিজ বলেন, “পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ জানানোই নয়, নিজেদেরও বদলে ফেলেছে বাংলাদেশ। রক্ষণাত্মক স্পিননির্ভর কৌশল থেকে বের হয়ে প্রাণবন্ত উইকেটে জয়ের মানসিকতা তৈরি করেছে তারা। এই পরিবর্তনে শান্ত আলাদা করে চোখে পড়েছে। সে খুবই চমৎকার একজন নেতা।”
পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের পুরোনো দুর্বলতাগুলো দিন দিন আরও বড় হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজও পাকিস্তান ক্রিকেটের অবনতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
তার ভাষ্য, “দেশের পর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অংশীদার খেলোয়াড়রাই, কারণ তারাই মাঠে খেলে। কৃতিত্ব ও দায়—দুটোই তাদের। শেষ চারটি আইসিসি আসরের ফলাফল এবং টেস্ট ক্রিকেটে অবনতি বাস্তবতা। প্রশাসনের সমাধান করার মতো কিছু গুরুতর সমস্যা রয়েছে।”


