
সুমাইয়া কবীর, ওয়াশিংটন ডিসিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ যেন এক সোনার হরিণে পরিনত হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের অন্যতম প্রধান ধাপ হচ্ছে সিভিক্স টেস্ট বা নাগরিকত্ব পরীক্ষা দেওয়া। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে একই নিয়মে চলছে নাগরিকত্ব লাভের এই প্রক্রিয়া। তবে এবারে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) পরীক্ষাটিকে নতুনভাবে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার ভাষায়, এটি একটি “বহু-ধাপের সংস্কার” যা একটি পরিকল্পনার অংশ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পেতে হলে আবেদনকারীদের এখন থেকে সিভিক্স টেস্ট বা নাগরিকত্ব পরীক্ষা দিতে হবে। আগামী সোমবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) এর পরে যারা নাগরিকত্বের জন্য এন-৪০০ আবেদন ফর্ম জমা দিবেন তাদেরকে এই নতুন পরীক্ষার নিয়মাবলীর অধীনে পরিক্ষা দিতে হবে। যারা আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৫ এর আগে যারা আবেদন করেছেন তারা ২০০৮ সালের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টির সঠিক উত্তর দিলেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যেত। তবে আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৫ এর নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হবে এবং এর মধ্যে অন্তত ১২টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে আবেদনকারীকে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) পরীক্ষার প্রশ্ন ভাণ্ডারও বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে আবেদনকারীকে আগে ১০০টি প্রশ্নের জবাব দিতে হতো, তবে এখন থেকে ১২৮ প্রশ্নের জবাব তাদের দিতে হবে বলে তারা জানিয়েছে ।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি এবং যারা অন্তত ২০ বছর ধরে গ্রিনকার্ডধারী, তাদের জন্য কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে । তাদের মাত্র ১০টি প্রশ্ন করা হবে এবং এর মধ্যে ৬টির সঠিক উত্তর যথেষ্ট বলে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাদের ওয়েবসাইট এ সংশ্লিষ্ট স্টাডি গাইড এবং ১২৮টি প্রশ্ন তালিকা প্রকাশ করেছে। আবাদেনকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে এই গাইডের আলোকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। কেননা প্রশ্ন যেমন পাল্টেছে ঠিক এর উত্তরের পরিধিও বেড়েছে। আগে সরকারের যেকোন একটি শাখার নাম বলতে পারলেই যথেষ্ট ছিল কিন্তু বর্তমানে পরীক্ষার্থীকে সরকারের ৩টি শাখার নাম বলতে হবে।
এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ভালো আচরন বা Good Moral Character। আগে এটি মূলত অপরাধ মুক্ত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে কেবল অপরাধ মুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত চরিত্র, সামাজিক আচরণ, কর্মস্থল ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক, এমনকি স্থানীয় কমিউনিটিতে তার অবদানকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিতে পারেন , কিংবা সুপারিশপত্র চাইতে পারে বলে জানা যায়। যদি কেউ সিভিক্স টেস্ট বা নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু দুইবারই ব্যর্থ হলে আবেদনকারীর আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নাগরিকত্ব পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যারা ইংরেজি ও মার্কিন ইতিহাস বিষয়ে দুর্বল, তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তাই আগ্রহীদের এখন থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।


