
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক (সিজিএম) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নারী ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএ) হেনস্তা, গালাগাল ও গলাধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক অফিস সহকারীকেও তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের বিটিসিএলের সিজিএম আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
রোববার দুপুরে উত্তরাঞ্চল বিটিসিএল কার্যালয়ে সিজিএমের নিজ দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ফেন্সি আক্তার নামের এক নারী কর্মী অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিজিএম আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অপমান করেন এবং গলাধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে বিকেলে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত অফিস সহকারী বকুল চন্দ্র জানান, স্যার অন্যায়ভাবে নারী কর্মীকে গালাগাল ও ধাক্কাধাক্কি করেন। আমি প্রতিবাদ করায় বিকেলে আমাকেও বগুড়ায় বদলি করেছে।
বিটিসিএল সূত্র জানায়, রোববার দুপুরেই চিফ জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল মালেকের সই করা এক অফিস আদেশে ফেন্সি আক্তারকে রাজশাহী অলকার মোড় অফিসে বদলি করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফেন্সি আক্তার জানান, স্যার প্রায় সময় সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সকালে তিনি আমার কাছে একজনের নম্বর চান। আমি নম্বর দেওয়ার পর কোনো কারণ ছাড়াই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি, আমাকে বদলি করা হয়েছে।
সহকর্মীদের অভিযোগ, সিজিএম আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে আসছেন। সামান্য বিষয়ে বদলির ভয় দেখানো তার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও রংপুর বিটিসিএল কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বরাবর তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন রিসিভ না করা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় অফিসে অনুপস্থিত থেকেও রাজশাহী থেকে মোবাইল ফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রোববার তথ্য সংগ্রহে গিয়ে উপস্থিত কয়েকজন কর্মী অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ সময় সিজিএমের গাড়িচালক আব্দুল কাদেরকে ভুক্তভোগী নারী কর্মীকে ফোন করে সাংবাদিক কেন অফিসে এসেছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইতে শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারী কর্মীকে ভয়ভীতিও দেখান।
তবে অফিসে না পাওয়ায় মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সিজিএম আব্দুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


